বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ১০:২০ অপরাহ্ন
কেন প্রয়োজন আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর জন্য ব্লগ ?
/ ৯০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

রেস্টুরেন্টের বিজনেস  শুরুর জন্য রেস্টুরেন্ট যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ই-কমার্স ব্যবসা করার জন্য ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো ধরনের বিজনেস এর জন্য ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ এই ই-কমার্স ওয়েবসাইট-ই আপনার ব্যবসাকে সাফল্যের দিকে পৌঁছিয়ে দিবে। যেমনঃ-  আপনার যদি স্মার্টওয়াচ, স্মার্টফোন, টি-শার্ট, পার্টি ড্রেস, বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস, সানগ্লাস ইত্যাদি যেকোনো কিছুর ই-কমার্স  বিজনেস থাকে দারাজ কিংবা আলিবাবার মত, তাহলে  আপনার দরকার হবে প্রথমেই ভালো মানের একটি কমার্শিয়াল   ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইট এর মাধ্যমেই আপনি আপনার বিজনেস এর প্রোডাক্টগুলো ব্লগের সাহায্যে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে পারবেন এবং ব্লগ লিখার মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে তথ্য দর্শককে জানাতে পারবেন।

ব্লগের প্রয়োজনীয়তাঃ

আপনার পণ্য সম্পর্কে তথ্য জানাতে ব্লগের বিকল্প নেই।আপনি যদি আপনার প্রোডাক্টগুলোর তথ্য সম্পর্কে কাস্টমার কে জানাতে চান তবে অবশ্যই ব্লগ  এ ক্ষেত্রে চমৎকারভাবে কাজে দেবে। আপনি যদি মেয়েদের গহনা বিক্রি করে থাকেন তবে আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট এ অনেক তথ্য আর্টিকেল লেখার মাধ্যমে দিয়ে দিতে পারেন। ব্লগে কি লিখবেন সেটা নিয়ে আপনার অবাধ স্বাধীনতা রয়েছে।

এখন বলতে পারেন শুধু শুধু ব্লগ লিখে কি লাভ? আপনার ওয়েবসাইট এ একটি সুন্দর ব্লগ থাকলে এটি কে সার্চ ইঞ্জিন এর অ্যালগরিদম মেনে অপ্টিমাইজড করলে আপনার ব্লগ টি সার্চ ইঞ্জিন এর ফার্স্ট পেজে শো করবে। একজন কাস্টমার যখন প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানতে গুগলে সার্চ করবে তখন আপনার ওয়েবসাইট এর ব্লগ যদি প্রথমেই শো করে তাহলে কাস্টমার স্বভাবতই আপনার ওয়েবসাইট এ প্রবেশ করবে। কাস্টমার টি আপনার ওয়েবসাইট এর ব্লগ পড়ার মাধ্যমে যখন  প্রোডাক্টগুলো সম্পর্কে অজানা তথ্যগুলো জেনে নিবে তখন অটোমেটেড আপনার ওয়েবসাইট থেকেই পছন্দসই  পণ্য অর্ডার করবে। তাই যেসব প্রোডাক্ট নিয়ে আপনার কাস্টমারদের জানার আগ্রহ বেশি সেগুলো নিয়ে ব্লগ লিখতে পারেন। ৭০% ক্রেতা বিজ্ঞাপনের থেকে ওয়েবসাইট এর কন্টেন্ট পড়ে একটি কোম্পানি সম্পর্কে বেশী জানতে পারেন এবং প্রোডাক্ট ক্রয় করেন।

একমাত্র ই-কমার্স ওয়েবসাইট এই কাস্টমার এর অর্ডার কনফার্ম করার জন্য সঠিক ও সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে। আরও রয়েছে পেমেন্ট গেটওয়ে মেথড। আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন কেন ই-কমার্স প্লাটফর্ম এ ওয়েবসাইটের জন্য ব্লগ থাকা প্রয়োজন।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনঃ

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কে সংক্ষেপে এস.ই.ও (S.E.O) বলা হয়ে থাকে। বর্তমানে ইন্টারনেটের ব্যবহার যত বাড়ছে search engine optimization বা এস.ই.ও এর জনপ্রিয়তা ও তত বাড়ছে। এছাড়া আপনারা যারা ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর জন্য ব্লগ লিখছেন তাদের ব্লগের পরিচিতি বাড়ানোর জন্য এর প্রয়োজনীয়তা তুলনাহীন। সহজভাবে যদি আপনাদের বলি, যখন আমরা কিছু জানার জন্য সার্চ ইঞ্জিনে কোন কিওয়ার্ড লিখে সার্চ দিই তখন গুগল বা সেই সার্চ ইঞ্জিনগুলো অনেকগুলো রেজাল্ট দেখায় যেগুলো প্রথম পেজ বা দ্বিতীয় পেজে শো করে। এরপর আমরা আমাদের পছন্দ অনুযায়ী লিংকে প্রবেশ করে ওয়েবসাইট ভিজিট করে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারি। যেই পদ্ধতিতে গুগল বা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিন এ রেজাল্টগুলো দেখায়, এই পদ্ধতিকেই বলা হয় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা SEO. ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভাষায় এসইও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। সার্চ ইঞ্জিনগুলো তৈরি হয়েছে, মানুষের তথ্য খুঁজে পাওয়ার জন্য। আমরা যখন কোন কিছু সার্চ দেই তখন সেরা ও সঠিক তথ্য খুঁজে পাওয়ার জন্য  সার্চ ইঞ্জিন সাইটগুলো কিছু প্রোগ্রাম তৈরী করে রাখে। এটি সকল সাইটগুলোর মধ্যে কিছু বিষয় তুলনা করে সেরা সাইটগুলোকে সার্চের সামনে নিয়ে আসে। কোন ওয়েব সাইটের আর্টিকেল  সার্চ ইঞ্জিনের ডাটাবেজের অপটিমাইজেশনের উপর একটি কোম্পানির সফলতা অনেকটা নির্ভরশীল।

বর্তমানে এই প্রতিযোগিতার সময়ে আপনার ওয়েবসাইট কে মনে রাখার সময় হয়তো কারোর নেই। তাই মানুষের প্রয়োজন মাফিক তথ্য সহজে খুঁজে পেতে এবং সাইটকে সকলের কাছে সহজে পৌঁছে দিতে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর তুলনা নেই। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে ওয়েবসাইট ভিজিটর  বা ট্রাফিক বাড়ানো। অনলাইন মার্কেটিং করা, নতুন পণ্য সকলের কাছে তুলে ধরা, নতুন নতুন সফটওয়্যার এর প্রচার প্রচারণাসহ নানা কাজ সহজে করে দিচ্ছে (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ) SEO। আপনাদের যদি গুগল অ্যাডসেন্সের কথা বলি অধিক ভিজিটর পাওয়া, ক্লিক পাওয়া, আয় করা এগুলো কোন কিছুই সম্ভব না SEO এর এপ্লিকেশন ছাড়া। SEO(এসইও) হলো এমন একটি উপায় যার মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন কে বুজানো হয় যে এই ওয়েবসাইটের এই পেজটিতে এই এই তথ্য রয়েছে। যার ফলে কোন ভিজিটর সার্চ ইঞ্জিনে এসে সেই বিষয়টি নিয়ে সার্চ করার সাথে সাথে আপনার ওয়েবসাইটটি কে সার্চ ইঞ্জিন সবার উপরের দিকে দেখানোর চেষ্টা করে এর ফলে আপনার সাইটে প্রতিদিন হাজার হাজার ভিজিটর প্রবেশ করে ঐ সার্চ ইঞ্জিন থেকে।

প্রোডাক্ট এর রিভিউ লিখার জন্যঃ

প্রোডাক্ট রিভিউ বলতে সহজ কথায় পণ্যের আলোচনাকে বোঝায়। প্রোডাক্ট রিভিউ পণ্যের এক ধরনের বিজ্ঞাপন। যখন আপনি কোন পণ্য সম্পর্কে প্রোডাক্ট রিভিউ দিবেন তখন আপনার ওয়েবসাইট এ ব্লগের প্রয়োজন হবে। ধরুন,

আপনি যখন  মার্কেটে কোন প্রোডাক্ট উপস্থাপন করেন তখন কি করেন ? আপনি আপনার কথা দিয়ে সাধ্যমতো কাস্টমারকে প্রোডাক্টের গুনগত মানটা বুঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আপনি যদি ওয়েবসাইট এ ব্লগ লিখে প্রোডাক্ট সম্পর্কে সব কিছু তথ্য দেন, প্রোডাক্ট এর উপকারীতা অপকারীতা তুলে ধরেন তাহলে কাস্টমার এর প্রোডাক্ট সম্পর্কে  ধারণা হবে এবং কিনতে আগ্রহী হবে। আপনি আপনার প্রোডাক্টগুলো কে কখনোই সুন্দর ও সুবিন্যস্ত আকারে ফেসবুক পেজে প্রদর্শন করতে পারবেন না। কারণ ক্রেতাদের জন্য ফেসবুক পেজের মাধ্যমে পছন্দসই ও বাজেট ফ্রেন্ডলি প্রোডাক্ট খুঁজে পাওয়া বিরক্তিকর ও সময় সাপেক্ষ। ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট বিভিন্ন  ক্যাটাগরিতে সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখতে পারবেন। কাস্টমার আপনার ওয়েবসাইট এ এক ক্লিকেই তার পছন্দসই প্রোডাক্ট খুঁজে নিতে পারবে। তাই আপনার ই-কমার্স বিজনেসকে দ্রুত এগিয়ে নিতে এবং অধিক সেলিং এর জন্য প্রোডাক্ট রিভিউয়ের উপর অনেক গুরুত্ব দিতে হবে।

ইন্ড্রাস্টি এক্সপার্ট হিসেবে নিজেকে ব্রান্ড করুনঃ

আপনাকে সব সময় মাথায় রাখতে হবে কাস্টমারকে  ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে আপনার স্কিল সম্পর্কে জানাতে হবে। আপনার ব্লগ পোস্টে বিভিন্ন ট্রিকস ও টিপস থাকবে যেটি অনুসরণ করে কাস্টমার উপকৃত হবে। নিজেকে জানুন এবং আপনি কোন কাজ ভাল পারেন তা আবিষ্কার করুন। নিয়মিতভাবে যদি আপনি কোন পণ্য বিক্রি করে থাকেন, তবে এটি নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ার করুন বা টিপস দিন। এতে করে কাস্টমার বা ভিজিটর এর সংখ্যা বাড়বে এবং কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট এর ব্যাপারে আগ্রহী হবে এবং আপনার কোম্পানি উপকৃত হবে।

আপনার কাস্টমারকে এঙ্গেজ করুনঃ

কাস্টমার এর সাথে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে কাস্টমার এঙ্গেজমেন্ট। এটির সাহায্যে আপনি অনলাইনে কাস্টমার এর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারবেন। কাস্টমার সবসময় বলে থাকে যে তারা এনগেজড ব্রান্ড এর প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে বেশি পছন্দ করে। আপনি যদি আপনার অডিয়েন্সদের ভালোভাবে না জানেন, তাহলে গুরুত্বপূর্ণ এনগেজিং কন্টেন্ট সরবরাহ করতে অসুবিধা হবে। আপনি জানেন যে কাস্টমার বা অডিয়েন্সরা কি খুঁজছে, কি কন্টেন্ট তাদের জন্য ভালো এবং কোন কন্টেন্ট থেকে তারা ভালো জানতে পারবে। তাই সেভাবেই আপনি কাস্টমারদের কে এঙ্গেজ করুন।

অনলাইন কমিউনিটি তৈরি করুনঃ

আপনার বিজনেস এর সাথে জড়িত ছোট বড় সবাই একটি জনগোষ্ঠী, যারাই হলো আপনার বিজনেস এর কমিউনিটি। যেহেতু কাস্টমারদের সাথে নিয়ে এই বিজনেস অগ্রসর হয়, তাই এই কমিউনিটির প্রধান ফোকাস হলো কাস্টমার। এই কাস্টমারদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হয়, তাদের খোঁজ খবর নিতে হয়। আপনার বিজনেসের যারা ইতিমধ্যে কাস্টমার হয়েছেন, তারা কি একে অপরকে চেনে? আপনার বিজনেসকে নিয়ে তারা পরস্পর কথা বলছে, এই রকম কোনো ফ্যাসিলিটি কি আপনি তাদের কে দিয়েছেন? যদি এইরকম কন্ডিশন তৈরী করতে পারেন, তাহলে আপনার বিজনেসের একটি কমিউনিটি প্লাটফর্ম তৈরী হলো যেখানে আপনার কাস্টমাররা পরস্পর আপনার বিজনেস প্রোডাক্ট সার্ভিস নিয়ে তথ্য আদান প্রদান করতে পারবে। আর এতে করেই আপনার বিজনেস খুব দ্রুত গ্রো করবে। অনলাইনের অধিকাংশ পণ্যের ক্রেতা দেশের বিভিন্ন স্থানের হয়ে থাকে। তাদের অফলাইনে পাওয়া দুষ্কর। তাই সুসম্পর্কও করতে হবে অনলাইনের কমিউনিটির মাধ্যমে। সারাদেশে থাকা ক্রেতাদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করার দারুণ পদ্ধতি পোস্ট কমেন্ট করা। এতে ক্রেতা-বিক্রেতার দূরত্ব কমে সুসম্পর্ক তৈরি হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেমন কমেন্ট বক্স রয়েছে, তেমনি ব্লগ পোস্টে কমেন্ট করার অপশন রাখুন। এখানে আপনাকে ফ্রেন্ডলি কাস্টমারদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং তাদের মতামতকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। অনেকে হয়তো বিভিন্ন সাজেশন দিবে, সমালোচনা করবে যেগুলো আপনার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এ কাজে আসবে। অনলাইন এই কমিউনিটির মাধ্যমে আপনার আচার ব্যবহার, বিনয়ী  কাস্টমারদের সাথে লং টাইম সম্পর্ক গড়ে উঠতে সক্ষম হবে। এতে করে আপনার ওয়েবসাইট এ অনেক বেশি ভিজিটর বাড়বে এবং প্রোডাক্ট ক্রয় বিক্রয় বেশি হবে। বর্তমান সময়ে ই কমার্স ওয়েবসাইট এর জন্য অনলাইন কমিউনিটি আপনার বিজনেস এ উন্নতি করতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করবে।

 

Code: shimul33799

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Total Post : 44