বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৪৩ অপরাহ্ন
অনলাইন ব্যবসা ফেসবুকে এত নির্ভরশীলতা কেন? কি করা উচিত?
/ ২৯২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

মার্ক জাকারবার্গের তৈরি আশ্চর্য এক প্রদীপ ফেসবুক। এই আশ্চর্য প্রদীপে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য। ফেসবুক এখন মানুষের আস্থার একটি স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে মানুষ ২০১৬ সালে ফেসবুক লাইভ ফেচারস আসার পর বিভিন্ন রকম ব্যবসা তো শুরু করেছেই, এমনকি চাকরিসহ বিভিন্ন ধরনের লেটেস্ট নিউজগুলোর আপডেট ও ইয়াং জেনারেশন ফেসবুক এর মাধ্যমে জানতে পারছে। খরচ কম ও অনেক বেশী সুবিধা  থাকায় ফেসবুকে মানুষ অনলাইন ব্যবসা এর প্রতি দিন দিন নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

মানুষের কাছে নিজের পণ্যকে পৌঁছানোর জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় বা মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। ফেসবুকের মাধ্যমে যারা আপনার পণ্য বা সেবা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত, তাদের কে আপনি সহজেই খুঁজে পাবেন। ফেসবুকে আপনার ব্যবসা কেন্দ্রিক একটি কমিউনিটি তৈরি করা যায় যেখানে সবাই পণ্যের বিষয়ে সমালোচনা বা  তাদের মতামত জানাতে পারবে।

প্রিয় পাঠক, বিস্তারিত জানতে হলে এই আর্টিকেল টি সম্পূর্ণ পড়ুন-

অনলাইন ব্যবসা ফেসবুকে এত নির্ভরশীলতা কেনঃ

Facebook Marketing যা সংক্ষেপে  এফ মার্কেটিং নামে পরিচিত, তবে নামে ভিন্নতা থাকলে এটাও আর পাঁচটা সাধারণ মার্কেটিং এর মতোই। শুধু মাধ্যম হিসেবে এখানে ব্যবহার করি ” Internet ” ও ” Facebook “। বর্তমানে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম হল ফেসবুক। ফেসবুকের মাধ্যমে কোন পণ্য বা সেবার প্রচারণা করে দেয়াকেই ফেসবুক মার্কেটিং বলা হয়।

ফেসবুক সারা বিশ্বে সোশ্যাল মিডিয়া হিসেবে জনপ্রিয়, সেই সাথে বিজনেস এর ক্ষেত্রেও জনপ্রিয়। তবে বিজনেস করার জন্য আমরা ফেসবুক মার্কেটিং এর উপর বেশি নির্ভরশীল। কারণ এই মার্কেটিং পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা  খুব সহজেই টার্গেটেড  অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছাতে পারছি। একটি brand, product, আর একটি ই-কমার্স website থাকলে আপনি সহজেই ফেসবুক মার্কেটিং করে আয় করতে পারবেন। নিজের একটি অনলাইন ব্র্যান্ড (online brand) তৈরি করার জন্য ফেসবুক মার্কেটিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি যেকোনো জায়গা, শহর, দেশ বা লোকাল এরিয়া টার্গেট করে নিজের ব্যবসার বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। Facebook এ বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ ইউজার রয়েছে, তাই এখানে ফেসবুক মার্কেটিং করে প্রচুর গ্রাহক পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং কম খরচেই আপনি এই বিজনেস টি শুরু করতে পারবেন। তাই প্রতিনিয়ত আমরা  ফেসবুক মার্কেটিং এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। ফেসবুকের মাধ্যমে অনলাইনে ব্যবসার ক্ষেত্রে যে কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ বা করা উচিত –

  • গ্রাহকদের সংস্পর্শে থাকা।
  • গ্রাহকদের চাহিদাগুলো শোনা।
  • বিভিন্ন ইভেন্টের আয়োজন করা।
  • বিভিন্ন অফার প্রাইজ দেওয়া।
  • ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়া।

ইকমার্স ওয়েবসাইট

ই-কমার্স বিজনেস এ কি কি কাজ করা যেতে পারেঃ

বর্তমান অনলাইন দুনিয়াতে প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সহজলভ্যতার কারণে ই-কমার্স বিজনেস ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ই-কমার্স বিজনেস এ সফল হওয়ার জন্য শুরু থেকেই নির্দিষ্ট লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে। আর তা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সফলতা অর্জন করা সম্ভব। আজকে আমরা কিভাবে ই-কমার্স বিজনেস এ সফলতা পাওয়ার জন্য ফেসবুক মার্কেটিং ছাড়াও অন্য প্লাটফর্মে কাজ করা যেতে পারে তা সবিস্তারে আলোচনা করবো।

ই-কমার্স  মানে হলো ইলেকট্রনিক কমার্স। অনলাইন বা ইন্টারনেট মাধ্যম ব্যবহার করে যে ব্যবসা পরিচালনা করা হয় সেটিই হলো ই-কমার্স। ই-কমার্স বিজনেস বর্তমান ডিজিটাল যুগে অন্যতম একটি সেরা প্লাটফর্ম। আগে ব্যবসা শুরু করা যতটা কঠিন ছিল, এখন প্রযুক্তির উন্নয়নে এটি অনেক টা-ই সহজ হয়ে গেছে। এই ব্যবসা এখন রূপ নিয়েছে ই-কমার্স  এ। যেটি ক্রেতা ও বিক্রেতার জন্য সহজ ও লাভজনক। ধরে নিলাম,  আপনি মার্কেটে গিয়ে কোন কিছু ক্রয় করেন বা আপনি মার্কেটে কোন দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করেন। যদি এমন হয় আপনি আপনার পণ্য ঘরে বসেই ক্রয়- বিক্রয় করতে পারছেন? এই রেভ্যুলেশন টি এনে দিয়েছে ই-কমার্স। আপনার এখন আর মার্কেটে গিয়ে পণ্য ক্রয়ের প্রয়োজন নেই বা দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করার দরকার নেই। আপনি ঘরে বসেই  ই-কমার্স এর মাধ্যমে পণ্য ক্রয় বিক্রয় করতে পারবেন।

ই-কমার্স বিজনেসঃ

যেমনঃ কাপড়ের ব্যবসা দিয়েই শুরু করতে পারেন। অনলাইন ব্যবসায় কাপড়ের বিজনেস এর মাধ্যমে আপনি ভালো আয় করতে পারবেন। এছাড়া আপনার পছন্দসই কাপড় ও বাজেট অনুযায়ী ক্রয় করতে পারবেন ই-কমার্স এর মাধ্যমে। আপনি খাবারের বিজনেস শুরু করতে পারেন। মানুষ এখনকার সময়ে ঘরে বসে খাবার অর্ডার করতে পছন্দ করে বেশি। এর অন্যতম কারণ হলো মানুষের কর্মময় জীবনের ব্যস্ততা।  আপনি অনলাইনের মাধ্যমে কোন সাইট বা ফেসবুকে পেজ খুলে নিজে খাবার তৈরী করে বিক্রি করতে পারেন। এতে আপনার সেলিং হবে প্রচুর। আপনি চাইলে একটি ই-কমার্স সাইট বানিয়ে সেখানে বিভিন্ন ইলেকট্রিক প্রোডাক্ট বিক্রি শুরু করতে পারেন বা আপনি চাইলে একটি অনলাইনে লার্নিং সাইট খুলতে পারেন। এখানে যত বেশি ছাত্র ছাত্রী আপনার সাইটে শিখতে আসবে আপনি তত আয় করতে পারবেন। সেইসাথে  আপনি শিক্ষা বিষয়ে নানান ক্লাস কোর্স হিসেবে বানিয়ে আপনার ই-কমার্স বিজনেসকে দাঁড় করাতে পারবেন সহজেই। ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার জন্য প্রথমে পরিকল্পনা করুন আপনি কোন ধরনের বিজনেস টি শুরু করতে চাচ্ছেন। এরপর একটি ওয়েবসাইট তৈরী নিন ভালো এজেন্সি থেকে। ই-কমার্স ওয়েবসাইট টি কে এমনভাবে তৈরি করুন যেন কোনো গ্রাহক একবার সাইটে প্রবেশ করলে মুগ্ধতার জোড়ে যেনো আর বেরুতেই না পারে। সুতরাং ঘরে বসে না থেকে এখনই ই-কমার্স বিজনেস শুরু করে দিন এবং সঠিক গাইডলাইন নিয়ে অগ্রসর হোন।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংফেসবুক ছাড়াও অন্য সোশ্যাল সাইটে মার্কেটিং করাঃ

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বর্তমান সময়ে  ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। কম খরচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে গ্রাহকদের পণ্য এবং সেবা ছড়িয়ে দেওয়া এখন খুব সহজ বিষয়। সঠিক গ্রাহকদের টার্গেট করে সোশ্যাল মিডিয়া যথাযথভাবে ব্যবহার করার মাধ্যমে প্রোডাক্ট বিক্রয়, ব্র্যান্ডের প্রসারতা , ট্র্যাফিক (ভিজিটর) জেনারেট করা  ইত্যাদির সুবিধা পাওয়া যায়। ফেসবুক ছাড়াও অন্যান্য  সোশ্যাল সাইটের মার্কেটিং এর প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। তাই আপনার প্রতিযোগীদের সাথে পাল্লা দিয়ে মার্কেটিং করতে চাইলে সোশ্যাল সাইট মার্কেটিং এর কোন বিকল্প নেই। আপনার ব্র্যান্ড তৈরি করতে, বিক্রয় বাড়াতে ও  ওয়েবসাইট ট্র্যাফিক (ভিজিটর) আনতে এবং আপনার কাস্টমারের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর বিকল্প নেই। তাছাড়াও, এখন ফেসবুক এ মার্কেটিং সহ আপনি  অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কেটিং করে প্রচুর পরিমাণে আয় করতে পারবেন। কিছু সোশ্যাল সাইট মার্কেটিং প্লাটফর্ম হল,  Instagram marketing, Twitter marketing, LinkedIn marketing, YouTube marketing, Pinterest ইত্যাদি।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংঃ

ফেসবুক মার্কেটিং কে একমাত্র আয়ের পথ হিসেবে মনে করা, এটি অনেকেরই মাইন্ডে ভালোভাবে ঢুকে গিয়েছে। আমি এখানে বলছি না, ফেসবুক কে বয়কট করেন, বাদ দেন ইত্যাদি ইত্যাদি। শুধু এটাই জানাতে চাই, ফেসবুক কিন্তু সবসময় সর্বোচ্চ সফলতা বয়ে আনতে পারে না আমাদের জন্য। আমরা যদি ফেসবুকের পাশাপাশি  অন্য সোশ্যাল সাইটে মার্কেটিং করা শুরু করি, তাহলে হয়তো আমরা রাতারাতি সফলতা পাবো না, তবে লেগে থাকলে একদিন সফলতা আসবেই। লিঙ্কডিন, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ এই সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলো তে পেইড অ্যাড সার্ভিসও আছে। যেগুলো তে ভিজিটর যত বাড়বে জনপ্রিয়তাও তত বাড়বে ঠিক ফেসবুকের মতই। আমাদের এই সোশ্যাল সাইটে সময় দিতে হবে, নিয়মিত এসে পোস্ট করতে হবে। কমিউনিটি বিল্ড আপ করতে হবে এবং অন্যদেরও ইনভাইট করতে হবে। আমরা যেভাবে ফেসবুক কে জনপ্রিয় করেছি ঠিক তেমনি এখানে আমাদের কাজ করতে হবে। আপনি শুরু করেই দেখুন, প্রথমে ১০ জনকে বলেন, এরপর তারা ৫০ জনকে বলবে এভাবে শুরু হবে। আমি আপনাদের বলব না সব মিডিয়াতে একসাথে কাজ করেন। যেকোনো একটি সাইট নির্বাচন করুন এবং সেখানেই কাজ শুরু করে দিন। আপনি কোন মার্কেটপ্লেস এ কাজ করছেন সেটা জরুরি না, সেটা ফেসবুক না হলেও কোন কিছুই ম্যাটার করে না। ম্যাটার করে যেখানে আপনি কাজ করছেন সেখানে ভিজিটর আছে কিনা কিংবা সেখানে তারা নিয়মিত কিনা। যখন দেখবেন সেখানে টার্গেটেড ভিজিটর আছে এবং সেখানে তারা নিয়মিত সময় কাটায় তখন ব্যবসায়ীরা অটোমেটিক্যালি সেখানে বিজনেস শুরু করবে।

নিজেদের একটা প্লাটফর্মের কথা চিন্তা করাঃ

আপনি যদি অল্প সময়ে ই-কমার্স মার্কেটিং এ সফল হতে চান তাহলে শুধু ফেসবুক মার্কেটিং এর উপর নির্ভরশীল হলে চলবে না। আপনাকে নিজের একটা প্ল্যাটফর্ম এর কথা চিন্তা করতে হবে। ই-কমার্স ওয়েবসাইট হতে পারে আপনার জন্য অন্যতম একটি সেরা প্ল্যাটফর্ম। কারণ একটি কমার্শিয়াল ওয়েবসাইট এ আপনি আপনার কাস্টমার এর জন্য ব্লগ লিখে আপনার বিজনেস এর প্রোডাক্টগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারবেন। এমনকি ই-কমার্স ওয়েবসাইট এ বিভিন্ন ক্যাটাগরি এবং সাব – ক্যাটাগরি রয়েছে যার মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্টগুলো খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখতে পারবেন। এতে আপনার কাস্টমারদের পছন্দসই প্রোডাক্ট খুঁজে নিতে কোনো ধরনের ঝামেলা হবে না। আবার ই-কমার্স ওয়েবসাইট এ রয়েছে পেমেন্ট গেটওয়ে মেথড। ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে আপনি একজন কাস্টমার এর শপিং কে করে তুলতে পারেন নিরাপদ, সাবলীল এবং আনন্দময়। আর কাস্টমারদের স্যাটিসফাইড করার মাধ্যমেই আপনি নিজের একটি প্ল্যাটফর্ম মজবুত করতে পারবেন। এজন্যই ই-কমার্স ওয়েবসাইট কে সফলতার মূলমন্ত্র বলা হয়

 

 

Code: 33799

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Total Post : 44